Sunday, December 16

কেওক্রাডং জয়ের এক অন্যরকম গল্প

“একজন মানুষ যদি এক পায়ে এভারেস্ট জয় করতে পারেন, ACL injury নিয়ে তুমি কেন পাহাড়ে বেড়াতে যেতে পারবে না?”
অনুপ্রেরণার শুরু সেই থেকেই । “খোঁড়া পা” নিয়ে অপমানিত হবার পর থেকে জিদ চেপেছিল নিজের দুর্বলতাকে ওভারকাম করার। সাহস ও অনুপ্রেরণার অভাব ছিল, সেটাও পূরণ হয়ে গেল। পায়ে আঘাত পাবার ঠিক ঠিক ১০ মাস পর সুযোগ আসতেই পায়ে ক্রেপ ব্যান্ডেজ বেঁধে পাড়ি জমালাম কেওক্রাডং এর উদ্দেশ্যে। বাসায় বলিনি কেওক্রাডং হেঁটে যাব, তাহলে হয়তো অনুমতি মিলত না। বলেছি বান্দরবান যাব গাড়িতে। গ্রুপমেটদের বলিনি আমার পায়ে ব্যথা, তাহলে হয়তো ওরা আমাকে নিত না।”

কথাগুলো লায়লা সিদ্দিকা বিনতির, তিনি কেওক্রাডং জয় করার পর এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে মন ছুঁয়ে যাওয়ার মত করে এমনিভাবেই মনের অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন ।

বগালেকের পর কেওক্রাডং জয় করতে গিয়েছিলেন ২৫ জন তরুণী । ”এই প্রথম ২৫ জন নারী মিলে বগালেক ও কেওক্রাডং জয় করে আসলো ! এত বড় মেয়েদের গ্রুপ ছেলে ছাড়া কখনোই যায়নি ।” এভাবেই মনের আনন্দের প্রকাশ দেখা যায় এ আয়োজনের গাইড আর ট্যুর প্ল্যানের সমন্বয়ক এবং ভ্রমণ গ্রুপ ট্রাভেলেটস অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সাকিয়া হকের স্ট্যাটাসে ।

আর এ ভ্রমণটির আয়োজনও করেছিল ট্রাভেলেটস অব বাংলাদেশ । এবারের ট্যুরটিতে লিড দিয়েছে এ ট্র্যাভেল গ্রুপটির মডারেটর সিলভী রহমান এবং কাজী শান্তা ।

ট্রাভেলেটস অব বাংলাদেশ গ্রুপটি ভ্রমণ পিপাসু কন্যাদের জন্য একটি হীরক খনি। মেয়েরা যে ছেলে সঙ্গী ছাড়াও যে কোন ধরনের ট্যুর করতে পারে সেটা এই গ্রুপের একটার পর একটা ট্যুর ইভেন্ট দেখলেই বোঝা যায় এবং যাদের ফ্যামিলি ছেলেদের সাথে ট্যুরে যেতে সমর্থন করে না সেই ভ্রমণ কন্যাদের জন্যও একটি অসাধারণ প্লাটফর্ম। তাই এ গ্রুপটির অগ্রযাত্রার ধারাবাহিকতায় ২৫ জন মেয়ের এক বিশাল গ্রুপ নিয়ে ট্রেকিং করে বগালেক হয়ে কেওক্রাডং জয় করে আসা আরেকটি মাইলফলক হিসেবেই গণ্য করা যায় ।

টিআইএস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *